সবার কাছে ইমারা মানেই ছিল, যে মেয়েটার হাসি ঘর ভরিয়ে দেয়। বিতর্ক, উপস্থাপনা কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে  মঞ্চ যেন ছিল তার প্রাণ।

 

কিন্তু এক প্রতিযোগিতায় অপ্রত্যাশিত হারের পর হঠাৎ সব ভেঙে পড়ে।বাংলাদেশে যেখানে প্রায় ৭০% তরুণ কোনো না কোনো সময়ে আত্মবিশ্বাসের সংকটে ভোগে, ইমারাও সেই সংখ্যার ভেতরে পড়ে গেল।

 

চারপাশের ঠাট্টা, ফিসফিসানি আর নিজের প্রতি সন্দেহ মিলিয়ে সে থেমে গেল, হাসি নিভে গেল, কণ্ঠ আটকে গেল।

 

তাকে আবার টেনে তুলল তার বড় বোন,ইনায়া।

শৈশবের পুরোনো বাক্সটা সামনে দিয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন,

“তুই চাইলে তোর হাত এখনো আলো ছড়াতে পারে!”

 

সেদিন থেকেই ইমারা আবার ঘুরে দাঁড়ালো। 

শুরু করল কাগজ, পুঁতি আর সুতো দিয়ে ছোট্ট ক্রাফট বানানো।

 

বাংলাদেশের ছোট উদ্যোগপতিদের প্রায় ৬২% নারী ঘরে বসে অনলাইন ব্যবসা শুরু করেন – ইমারাও সেই পথেই হাঁটল।

ফেসবুক পেজ খুললো।

প্রথম মাসে বিক্রি হলো মাত্র ১৫০০ টাকার। কিন্তু তিন মাস পর তা বেড়ে দাঁড়াল ১০ গুণে।

 

অবিশ্বাস্য মোড় এল তখনই, এক কর্পোরেট ইভেন্টে যেখানে  তার পণ্যের অর্ডারের পাশাপাশি,  তাকেই মঞ্চে ডাকল উপস্থাপনায়।

কাঁপা হাতে মাইক ধরলেও, দর্শকের করতালিতে ফিরে এলো সেই পুরোনো দৃঢ়তা।

 

আজ ইমারার ব্র্যান্ডের মাসিক বিক্রি গড়ে ৫০,০০০ টাকার বেশি।

 

এখন তার পরিচয়?!

সে এখন সবার পরিচিত “Entrepreneur & Host Imara”

 

কিন্তু খুব কম মানুষই জানে, প্রতিটি সাফল্যের আড়ালে আছে কিছু নিঃশব্দ রাত, যেখানে সে ভেবেছিল –

“হয়তো আমি আর কখনো উঠতে পারব না।”

 

আর সেই রাতগুলোই তাকে শিখিয়েছে–

সাফল্য মানে নিভে যাওয়া আলোকে আবার জ্বালানো।

 

লেখক,

ফাতেমী সুষম 

MT of Content Writing Department