“একদিন আমি নিজের হাতেই নিজের ভাগ্য বুনন করবো” – এই কথা বলার সময় কেউ নিপাকে বিশ্বাস করেনি।
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার ছোট্ট গ্রাম বৌলাশপুরে, মাত্র দুই হাজার টাকা আর এক পুরনো সেলাই মেশিন নিয়েই শুরু হয়েছিল তার পথচলা।
শুরুর দিনগুলো ছিল কষ্টের! অনেক দিনই কাজ আসতো না, পরম মমতায় এই বুননের চাহিদা ছিলো কম।
কখনও সুঁই ভেঙে যেত, কখনও বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ থেমে থাকত।
তবুও হাল ছাড়েনি নিপা। রাতের প্রদীপের আলোয় সেলাই করেছে, আবার সকালে হাঁটতে হাঁটতে কাপড় পৌঁছে দিয়েছে গ্রাহকের বাড়িতে।
বাংলাদেশে প্রায় ৪০% নারী উদ্যোক্তা হস্তশিল্প ও পোশাকের সঙ্গে যুক্ত। নিপাও ধীরে ধীরে সেই ধারায় নিজের জায়গা করে নেয়।
তার হাতে তৈরি ব্লাউজ, শাড়ি আর বাচ্চাদের জামা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের গ্রামে। একবার অর্ডার দিলে গ্রাহক আর অন্য কোথাও যেত না।
কাজের মান আর আন্তরিক হাসিই হয়ে উঠেছিল নিপার ব্যবসার আসল পরিচয়।
আজ তিন বছর পর, নিপার ঘরই যেন ছোট হয়ে গেছে। এখন তার সঙ্গে কাজ করছে পাঁচজন নারী।
শুধু সেলাই নয়, তাদের হাতে তৈরি হ্যান্ডব্যাগ ও সাজসজ্জার সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে পাশের বাজারেও। প্রতিদিনের আয়েই চলে পরিবার, স্কুলে যায় ভাইবোনেরা, আর নিপা নিজেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।
গ্রামের মানুষ গর্ব করে বলে—
“নিপা মানেই ভরসা।”
অথচ এই সফলতার সূচনা হয়েছিল বৌলাশপুরের এক কোণে, একটিমাত্র সেলাই মেশিন আর অবিচল সাহস দিয়ে।
আসলেই, নিপার মতো ছোট্ট উদ্যোক্তারাই বদলে দিতে পারে আমাদের সমাজের চেহারা।
লেখক,
ফাতেমী সুষম
MT of Content Writing Department