রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ছেঁড়া জুতা পায়ে দৌড়ে বেড়ানো ছেলেটিকে সবাই চিনত। নাম তার রাহাত। দিনের পর দিন কুড়িয়ে পাওয়া বোতল বিক্রি করেই চলতো তার জীবন। কারো কাছে সে কেবল এক বখাটে ছেলেই ছিলো। কিন্তু ভেতরে ভেতরে রাহাত লুকিয়ে রেখেছিল অন্য স্বপ্ন, একদিন অনেক বড় কিছু করবে।

 

এক রাতে ফেলে দেওয়া খবরের কাগজ কুড়াতে গিয়ে তার চোখ আটকে গেল একটি বিজ্ঞাপনে, “ফ্রি কোডিং ক্যাম্প ফর ইয়ুথ।” কোডিং কী, সে তো জানে না, তবু ঠিক করল, টাকা যেহেতু লাগছে না, ক্যাম্পটিতে অংশগ্রহণ করাই যায়।

 

প্রথম দিন ক্লাসে ঢুকে সবাই হাসাহাসি করল তার চালচলন ও পোশাক দেখে। তার খুব লজ্জা লাগতো৷ তাও রাহাত চুপ করে ক্লাস করতে যেতো। মনে মনে চিন্তা করতো, একদিন আমার ফলাফলই হবে তাদের প্রতি আমার উপযুক্ত জবাব। সমস্ত কাজ শেষে ফিরতে ফিরতে আলো চলে গেলে স্টেশনের লাইটের নিচে খাতায় প্র্যাকটিস করতো। অসংখ্যবার ব্যর্থ হলেও সে হাল ছাড়েনি।

ক্যাম্প শেষে হঠাৎই আয়োজকেরা একটি প্রতিযোগিতা ঘোষণা করলো, সেখান বলা হলো, সেরা প্রজেক্ট বানাতে পারলে ইন্টার্নশিপের সুযোগ মিলবে। রাহাত মনে প্রাণে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করে যেনো এই অবস্থায় ঘুরে দাঁড়ানো যায়। অন্যান্য কাজের পাশাপাশি দিনরাত প্রজেক্ট কাজ করে তৈরি করলো একটি মোবাইল অ্যাপ, যেখানে তার মতো স্টেশন এলাকার সুবিধা বঞ্চিত ছেলেমেয়েরা পাবে বিনামূল্যে পড়াশোনার রিসোর্স।

 

এবার ফলাফল ঘোষণার দিন, সবার বিস্ময়ের মাঝে প্রথম হলো সেই রেলস্টেশনের ছেলেটিই, রাহাত। তার পোশাক এবং চালচলন নিয়ে হাসাহাসি করা মানুষেরা অপলক দৃষ্টিতে তার দিকে নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো। রাহাত ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেলো একটি আন্তর্জাতিক টেক কোম্পানিতে।

সময় ঘুরেছে, আজ রাহাতর তার নিজস্ব স্টার্টআপ চালাচ্ছে। প্ল্যাটফর্মে যে ছেঁড়া জুতা পায়ে দৌঁড়াত, আজ সেই জুতা তার অফিসের গ্লাস কেবিনে সাজানো আছে, একটা স্মারক হিসেবে। কারণ সত্যিকারের স্বপ্ন কখনো ছেঁড়া জুতার ভেতরে চাপা পড়ে থাকে না, সুযোগ পেলে সে একদিন পৃথিবী কাঁপায়।

 

লেখক:

সিদরাতুল মুনতাহা তাবিতা

MT of Content Writing Department